সপ্নের জাল
প্রায় ৪ বছর পর নিলয় নিজের গ্রামে পা রাখল। উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের জন্য তাকে নিজের জন্মভূমি ত্যাগ করতে হইছে। এতদিন পর নিজের গ্রামে এসে নিলয়ের মন ভরে গেল। গ্রামের মেঠো পথ দিয়ে হাটছে আর চারদিকে তাকিয়ে নিজের গ্রামের দৃশ্য দেখছে। পিছন দিক থেকে একটা ভ্যান চালক এসে নিলয়কে বলল” কোথায় যাবেন ভাই? মাদবর বাড়ি যাবো আপনি যাবেন? নিলয় বলল। উঠেন, তারপর নিলয় ভ্যানে চেপে বসল। নিলয়ের কাছে দুুইটি ব্যাগ। একটি নিজের ব্যবহৃত জিনিস পত্রের ব্যাগ, আরেকটি গিটারের ব্যাগ। আর শহর থেকে বাড়ির জন্য কিছু ফলমূল নিয়ে এসছে। নিজের ব্যবহৃত জিনিসপত্রের ব্যাগ আর ফলমূলের থলে ভ্যানে রেখে গিটারের ব্যাগ থেকে গিটারটি বেড় করল। এমনি সময় ভ্যান চালক বলে উঠল আপনি বুঝি ভালো গান গাইতে পারেন? হুম মাঝে মধ্যে শখ করে গাই, তবে পেশাদার গায়ক নয়। নিলয় বলল” তয় এখন একটা গান করেন সাথে আমিও গাই, চালক বলল। নিলয় বলল, অনেক দিন পর গ্রামে এসেছি তাই গ্রামকে নিয়েই গান গাইব। আপনিও আমার সাথে শুরু করেন। এই বলে নিলয় গিটার বাজায় আর গিটারের তালে গাইতে লাগল,
গ্রাম ছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ, আমার মন ভুলায় রে,,,,, তারপর তার সাথে ভ্যান চালকও তালে তাল মিলিয়ে গাইতে লাগল;
গ্রাম ছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ,
আমার মন ভুলায় রে।
ওরে কার পানে মন হাত বাড়িয়ে,
লুটিয়ে যায় ধুলোয় রে!!
আমার মন ভুলোয় রে,
গ্রাম ছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ,
আমার মন ভুলায় রে।
ওযে আমায় ঘরের বাহির করে,
পায়ে- পায়ে পায়ে ধরে,
মরি হায় হায় রে।
ওযে কেড়ে আমায় নিয়ে যায় রে।
যায় রে কোন্ চুলায় রে,
আমার মন ভুলোয় রে।
গ্রাম ছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ,
আমার মন ভুলায় রে।
ও যে কোন বাঁকে কি ধন দেখাবে!
কোনখানে কী দায় ঠেকাবে!
কোন বাঁকে কী ধন দেখাবে!
কোথায় গিয়ে শেষ মেলে যে!
ভেবেই না কুলায় রে,
আমার মন ভুলায় রে।
গ্রাম ছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ,
আমার মন ভুলায় রে,,,,,
গান শেষ হতে না হতেই ভ্যান মাদবর বাড়ির দরজায় এসে থামল। নিলয় ভ্যান থেকে নেমে ভাড়া টাকা দিতে দিতে ভ্যান চালককে বলল আপনি খুব সুন্দর গান গাইতে পারেন, আজ দুপুরে আমাদের বাড়ি খেয়ে যাবেন। ভ্যান চালক ভ্যান ঘুরাতে ঘুরাতে হাসি মুখে বলল আপনিও সুন্দর করে গান গাইতে পারেন, আজ নয় অন্য একদিন খেয়ে যাবো। এই বলে তিনি চলে গেলেন। নিলয় দরজা থেকে ঘরের দিকে যাবে এমনি সময় তার ছোট বোন দৌড়ে নিলয়ের কাছে আসছে আর আনন্দিত স্বরে ডাক দিয়ে বলছে মা দেখ কে এসেছে। এমনি সময় তার মা রান্না ঘর থেকে এসে বলল আমার সোনা মানিক তুই কত দিন পর এসেছো এই বলে নিলয়কে জড়িয়ে ধরে চোখের পানি রাখতে পারল না। নিজের ছেলেকে ৪ বছর পর দেখতে পেলে সব মা এভাবে কাদবে এটাই স্বাভাবিক! মা তুমি কাদলে আমার খুব খারাপ লাগে ক্ষিদে পাইছে কিছু খেতে দাও। “নিলয় বলল” এরই মধ্যে নিলয়ের বাবা ঘর থেকে বেরিয়ে এল, হাতে একটি খবরের কাগজ। তিনি নিলয়কে বলছে বাবা এসেছো ভালো হইছে তোমার বোনের বিয়ে ঠিক করেছি। নিলয় খুশি মনে বলছে সত্যি বাবা অনেক মজা হইবে। রাজকুৃমারের মত বড় আসবে, তার সাথে অনেক পেয়াদা আসবে! তারপর আমার লক্ষী বোনটিকে রাজকুমারির মত সাজিয়ে পালকিতে চড়ে নিয়ে যাবে অচিন রাজার দেশে। এই বলে নিলয় তার বোনের দিকে তাকালো, তার বোন লজ্জায় লাল হয়ে নিজের ঘরের দিকে দৌড়ে চলে গেল। নিলয়ের বাবা হুহুহুহুহু করে হাসছে আর নিলয়কে বলছে চল ঘরে চল অনেক দিন পর একসাথে খাব, খেয়ে বিশ্রাম নিবি। তারপর নিলয়ের পরিবারের সবাই একসাথে দুপুরের খাবার খেল। নিলয় কিছুক্ষন বিশ্রাম নিয়ে বিকাল হতে না হতেই ছুটে গেল সেই অনেক সৃতি জড়ানো মাধ্যমিক স্কুলের দিকে। সেখানে পৌছে একটি রুমের সামনে গেল যেখানে ১০ম শ্রেনীতে ক্লাস করেছে। কি আজব স্কুল তো এখন ছুটি কিন্তু দরজায় তালা নেই কেন? নিলয় মনে মনে বলল” যাই হোক রুমটা একটু ঘুরে দেখি! রুমে প্রবেশ করতে না করতেই কে যেন রুমের মধ্য থেকে ডাক দিয়ে বলে উঠল ওই দেখ ডিবি তারাতারি পালা। তারপর তারা সবাই রুমের পেছনের আরো একটি দরজা দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেল। নিলয় বুজে ফেলল ওরা আমাকে ডিবি ভেবেছে। তারপর রুমের ভেতর দেখতে পেল অনেকগুলি টাস আর নেশার বোতল। নিলয় অভাক হয়ে ভাবছে একটি স্কুলের অবস্থা এই রকম হয় কিভাবে! যাই হোক নিলয়ের একটি বেঞ্জ এর দিকে চোখ পড়ল তার উপর খুব সুন্দর করে লেখা আছে “N2” মানেটা বুঝতে নিলয়ের দেরি হল না। কারন ঐ লেখাটি তিনি নিজের হাতে লিখেছেন। “N2″ দিয়ে তিনি বুঝেইছেন Niloy, Nidu. দুটি নামের শুরুতেই N. নিধু হলো তার প্রমিকা, নবম শ্রেনীর শুরু থেকে তাদের মধ্যে প্রেম হয়। তারপর নিলয় রুম থেকে বেড়িয়ে ছুটে গেল মাঠের কোনে এক বট গাছের নিচে। ওখানে বসেই নিধুর হাতে একটি চিঠি ধরিয়ে দিয়েছিল নিলয়। নিধু শুরুতে রাজি ছিল না, পরে নিলয় অনেক চেষ্টা করে তাকে রাজি করায়। গাছের নিচে দাড়িয়ে নিলয় সবকিছু মুগ্ধ হয়ে ভাবছে আর চোখ থেকে আনন্দের ঝিলিক ফুটছে। নিলয়ের মনে পরল গাছ থেকে খানিকটা দূরে এক ঝাল মুরি ওয়ালা ছিল। স্কুলের সবাই তাকে ওমর চাচা বলে ডাকত। নিধু নিলয়কে প্রতিদিন টেনে টেনে এখানে নিয়ে আসত আর ঝাল মুরি খাওয়ার বায়না ধরত। তারপর কে যেন নিলয়কে পিছন থেকে তার মাথায় হাত দিয়ে হালকা ধাক্কা দিল। তবে সেটা তাকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে নয়। নিলয় পিছনে তাকাতেই তাকে জড়িয়ে ধরল আর বলতে লাগল সালা এতদিন কেমনে ভুইলা রইছ। নিলয় বলল” আরে সজল তুই! কেমন আছিস রে? সজল বলল” এতদিন তোকে ছাড়া ভালো ছিলাম না আজ তোকে পেয়ে অনেক ভালো লাগছে। চল বাজারে যাই চা খাব আর আড্ডা দেব। নিলয়: হুম যাওয়া যায়। তারপর নিলয় আর সজল বাজারের উদ্দেশ্যে যায়। নিলয় সেই মায়া জড়ানো স্কুলের দিকে আবার পেছন ফিরে চায়। নিলয় বলল” আচ্ছা সজল স্কুলের এই রকম অবস্থা কেন! দেখলাম কিছু বখাটে ছেলেরা ওখানে বিভিন্ন ধরনের নেশা করছে, স্কুলের অবস্থা দেখে মনে হয় অনেক দিন যাবত ক্লাস হচ্ছে না। সজল বলল এ ব্যাপারে আংশিক কিছু জানি। চল, বাজারে চা খেয়ে হেড স্যারের বাড়িতে যাব। তার কাছ থেকে সব কিছু জানব। তারপর বাজার থেকে তারা হেড স্যারের বাড়িতে গেল। প্রথমে তার সাথে গল্প করল। এক ফাকে জিগ্যেস করে ফেলল স্কুলের অবস্থা। কথাটি শুনতেই যেন স্যারের মুখে মলিনতার ছাপ পরে গেল। স্যার দীর্ঘ নিশ্বাস নিয়ে বলল আর বল না বাবা স্কুলটা বন্ধ হয়ে গেছে আর কোনদিন ছেলেমেয়েরা এই স্কুলে শিক্ষার জন্য আসবে না। নিলয় অবাক সুরে বলল” কেন? স্যার: এলাকার কিছু বখাটে ছেলেরা একটি মেয়ের সাথে নোংরামি করে তারপর বিভিন্ন কেছাকেছিতে একসময় স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। স্যার নিলয়ের দিকে তাকিয়ে আরো বলতে লাগল” বল বাবা এর জন্য স্কুল কি দোষ করছে! মামলায় তো একটা রায় দিতে হবে আর তা স্কুলের দিকে চাপিয়ে দেয় মাঝখানে বখাটে ছেলেগুলোর কোন শাস্তি হলো না! এখন স্কুলের শিক্ষকদের সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে হঠাৎ করে তাদের চাকরি চলে গেলে তো এই রকমই হবে। নিলয় স্যারের কথা শুনে বলল বখাটেগুলো কারা! আর কার সাথে এই নোংরামি হইছে? স্যার বলল এ সম্পর্কে আর কিছু বলতে চাই না, মনে পরলে খুব খারাপ লাগে। নিলয় স্যারকে বিরক্ত না করে বলল তা এখন আসি স্যার সন্ধ্যা হয়ে গেছে। এই বলে নিলয় আর সজল যার যার বাড়ি ফিরে গেল। নিলয় রাতের খাবার খেয়ে নিজের সোবার রুমে গিয়ে একটি উপন্যাস এর বই বের করে পড়তে লাগল। এমনি সময় হঠাৎ নিধুর কথা মনে পরে গেল। নিলয় বইটি পাশে রেখে বিছানায় শুয়ে শুধু নিধুর কথা ভাবছে। কত দিন নিধুর সাথে গল্প করতে করতে সময় পার করেছে। নিলয় সবকিছু মধুর নয়নে ভাবছে, যাই হোক কাল নিধুর সাথে দেখা করতে যাব। নিলয় চলে যাওয়ার আগে নিধু বলেছিল সে নিলয়ের জন্য সারা জীবন অপেক্ষা করবে। নিলয় কাল নিধুর সাথে দেখা করতে যাবে এই ভেবে সারা রাত ঘুমাতে পারে নাই। অবশেষে সকাল হল এবং নিলয় সকালের নাস্তা খেয়ে নিধুর বাড়ির দিকে রওনা হল। পাশের গ্রামেই নিধুর বাড়ি তবে বেশি দূরে নয়, হাটা পথ। নিলয় নিধুর বাড়ি পৌছা মাত্রই নিধুকে দেখতে পেল একটি গাছের নিচে বসে আছে। নিধু নিলয়কে দেখা মাত্রই এক রাশ হাসি দিল। কিন্তু নিলয় নিধুর দিকে অভাক হয়ে তাকিয়ে আছে। যে মেয়ে সব সময় গোছালো থাকত তার চুল আজ এলোমেলো কেন! তার চেহারায় কেন মলিনতার ছাপ! যাই হোক নিলয়ও এক বিন্দু হাসি দিল। তবে হাসিটা মন থেকে নয় নিধুকে দেখানোর জন্য। নিধু নিলয়কে জিগ্যেস করল কেমন আছ নিলয়? নিলয় বলল হ্যা ভালো আছি তুমি কেমন আছ? নিধু বলল আমার ভালো থাকা দিয়ে কি হবে!
নিলয়: মানে?
নিধু: আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে, নিলয়।
নিলয়:কি যা তা বকছ।
নিধু: হ্যা সব ঠিক বলছি, ওরা আমার সবকিছু কেড়ে নিয়েছে।
নিলয়: গলা ভাঙ্গা অবস্থায় বলছে” কি বলছ! আর ওরা কারা? দেখ সবকিছু খুলে বল।
নিধু: আচ্ছা তাহলে বলছি, আমি কলেজে যাওয়া আসার পথে কিছু বখাটে ছেলে আমাকে উদ্দেশ্য করে খারাপ ভাষা বলত। আমি প্রথমে প্রতিবাদ করি নাই ভাবছি ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু কিছুতেই ওরা ঠিক হলো না। একদিন আমি প্রতিদিন এর মত কলেজ থেকে বাসায় ফিরছিলাম। আবার সেই বখেটে ছেলেগুলো আমাকে খারাপ ভাষায় কথা বলে। আমি এবার সহ্য করতে না পেরে তাদেরকে বললাম” তোমাদের ঘরে কি মা বোন নেই? ওদের মধ্য থেকে একজনে বলে উঠল তোর তো সাহস কম না! তুই মা বোন নিয়ে কথা বলছ। তারপর সে সবার দিকে তাকিয়ে বলল এ মেয়েটারে এখন কি করা যায়। ওদের মধ্য থেকে আরো একজন ঠোট কামরে ইশারায় খারাপ কিছু ইঙ্গিত করতেই আমি বুঝে ফেলি এবং দৌড়ে পালাবার চেষ্টা করি। কিন্তু ওড়া আমাকে হিংস্র প্রানীর মত ধরে ফেলে এবং আমাকে টানতে টানতে স্কুলের দিকে নিয়ে যায়। তখন কি কারনে যেন স্কুলটি বন্ধ ছিল। আমি অনেক চিৎকার করেছি কিন্তু কেউ আমার চিৎকার শুনতে পায় নি। তারপর ওরা আমাকে স্কুলের একটি রুমে নিয়ে যায় কথাটি বলেই নিধু কেঁদে ফেলল। কিছুক্ষন পর আবার ডাক সূরে বলল ওরা আমার সাথে নোংরামি করেছে।
নিধুর কথা শোনা মাত্রই নিলয় স্বাভাবিক অবস্থায় বসা থেকে গাছের সাথে হেলান দিয়ে বসে পরল। এভাবে কিছুক্ষন যাওয়ার পর নিধু বলল দেখো নিলয় তুমি একটা ভালো ছেলে আমি চাই না তুমি নষ্ট একটা মেয়ের সাথে সংসার কর, তুমি অন্য কাউকে বিয়ে করে নিও আর আমাকে ভুলে যাও। নিলয় বলল” নিধু তোমাকে ছাড়া আমি কাউকে বিয়ে করতে পারব না। আর মানছি ওরা তোমার সাথে খারাপ কিছু করেছে কিন্তু এতে তোমার তো কোন দোষ নাই। নিলয়ের কথা শুনে নিধু রাগি সূরে বলল” হ্যা আমার কোন দোষ নেই কিন্তু সমাজ তো এটা মেনে নিবে না। তারা সবাই মনে করছে সব দোষ আমার, কেননা তাদের সামনে নাকি আমার প্রতিবাদ করা চরম ভুল হইছে। তুৃমি যতই করুনা কর না কেন আমি তোমাকে বিয়ে করতে পারব না। নিধুর কথা শুনে নিলয় নরম গলায় বলল” দেখো নিধু এই ৪ বছর আমি শুধু তোমার কথা ভেবেছি, তোমাকে জীবন সঙ্গী বানাবো এই সপ্ন দেখেছি। আমি তোমাকে ভালোবাসি তোমার শরীরকে নয়। দয়া করে আমাকে ফিরিয়ে দিও না! নিলয়ের কথা শুনে নিধু আরো কঠিন গলায় বলল” আমি আগেই বলেছি তুমি করুনা করলে আমি গলে যাবো না। নিলয় বলল” আমি করুনা করছি না, আমি সত্যি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। বিশ্বাস কর আমি এতদিন তোমার জন্য সপ্নের জাল বুনেছি, যে জালে তুমি আর আমি আবদ্ধ থাকব। এই কথা বলে নিলয় নিধুর হাত ধরতে যাবে এমনি সময় নিধু ছিটকে সরে গেল। নিধু বলতে লাগল আমাকে ধরবে না এখান থেকে চলে যাও। নিলয় নিধুর কথা শুনে অভাক হয়ে দুচোখে পানি নিয়ে নিধুর কাছ থেকে সরে যাচ্ছে আর ভাবছে যে এতদিন তাকে পাগলের মত ভালোবাসত সে আজ কি বলছে। এদিকে নিধুও নিলয়ের দিকে করুনা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। নিলয় নিজের বাড়ি না গিয়ে নিধুর মায়ের কাছে গেল, নিধুর মাকে বলতে লাগল আন্টি নিধু আমার সাথে এই রকম কথা কেন বলছে? ও আগের থেকে অনেক পাল্টে গেছে। নিধুর মা বলছে” নিলয় তুমি কি বলছো কিছুই বুঝতে পারছি না। নিলয় বলল নিধুকে ওই গাছের নিচে বসে থাকতে দেখলাম, ও আগের মত কথা বলছে না। নিধুর মা বলল তুমি কাকে দেখেছো নিধু তো অনেক আগে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গিয়েছে ও আর ফিরে আসবে না। এই কথা শোনা মাত্র নিলয়ের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরল। নিধুর মা আরো বলতে লাগল প্রায় ৩ বছর আগে ওর সাথে খারাপ কিছু হইছে। সমাজের সবাই নিধুকেই দোষারোপ করছে। তাই সমাজ থেকে নিজেকে আড়াল করার জন্য আত্মহত্যার পথ বেচে নেয়। কথা বলতে বলতে নিধুর মা কেদে ফেলল। নিলয় মনে মনে ভাবছে তার মানে তিনি নিধুর আত্মার সাথে কথা বলছে। নিলয় নিধুর মাকে জিগ্যেস করল আন্টি ছেলেগুলো কারা ছিল? নিধুর মা বলল” সোহেল, হাসান, কাওসার, রুবেল। নিধুর মা কাদো কাদো গলায় বলছে” ওদের কোন বিচার হয়নি আর আমার মেয়ে কবরে। নিধুর মায়ের কথা শুনে নিলয় বাড়ি ফিরে গেল। কোথায় ঘুম, কোথায় খাওয়া কিছুই তার ভালো লাগছে না। সারাদিন শুধু নিধুর কথা মনে পড়ছে। নিধুকে ছাড়া তার বেচে থাকা অসম্বব হয়ে পড়ছে। এরপর দুইদিন পর নিলয়ের সামনে একটি খবরের কাগজ পেয়ে পড়তে লাগল। খবরের কাগজে লেখা ছিল একরাতে অলিপুর গ্রামে চার জন খুন। বিস্তারিত লেথা ছিল, পুলিশ এ ব্যাপারে তদন্ত নিচ্ছে এবং খুনিকে খুব তারাতারি আইনের আওতায় আনা হবে। নিলয় খবরটি পড়ছে এবং ঠোটের এক কোনা দিয়ে মিসকি হাসছে। নিলয় মনে মনে ভাবে খুনিকে ঘায়েল করা এত সোজা নয় কেননা খুনি ঐ জায়গায় কোন প্রমান রাখে নি। তারপর নিলয় দৌড়ে নিধুর কবরের কাছে গেল এবং হাটু গেড়ে বসে পরল। কান্না সূরে বলতে লাগল আজ আমার খুব ভালো লাগছে, তোমার সাথে যারা নোংরামি করছে, যাদের জন্য তুমি আত্মহত্যার পথ বেচে নিয়েছো। তাদের কাউকে আমি ছাড়ি নাই, সবাইকে পশুর মত খুন করেছি। ওরা আর নিধুর মত মেয়ের সাথে নোংরামি করবে না, আর কোন নিলয়ের মত ছেলের স্বপ্নের জাল বোনা স্বপ্ন ভেঙ্গে যাবে না।
বি: দ্র:- গল্পটি সম্পূর্ন কল্পকাহিনী, এর সাথে বাস্তবের কোন মিল নেই।
গল্প:- সপ্নের জাল
লেখক:- জাহিদুল ইসলাম জিহাদ