আমি ক্ষুদ্র শুক্রাণু থেকে বেড়ে ওঠা, দুনিয়া চেনা এক লড়াকু সৈনিক।
আমি মুষ্টিবদ্ধ হাতে জয় করা এক আকাশ সমান গ্লানি।
আমি অচেনা নদীর কূল খুজে নেওয়া বৈঠা বিহীন মাঝি।
আমি গহীন জঙ্গলে হারিয়ে, আবার ফিরে আসা বেপরোয়া জংলী।
আমি যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর মাথা খাওয়া ক্ষুধার্ত নেকড়ে।
আমি আপনজনের দেওয়া, তীর বিদ্ধ বুক নিয়ে শনাক্ত করা বিশ্বাসঘাতকের মুখোশ।
আমি মরুভূমির ধূসর বালুতে হামাগুড়ি দিয়ে স্বপ্ন দেখি সূর্য ডোবার প্রান্তরে।
আমি আবার ফিরি শত বাঁধা, শত অভিমান গেঁথে গহীন অন্তরে।
আমি কষ্ট সইবার লড়াইয়ে জয় করেছি প্রত্যয়ের সিংহাসন।
এখন আমি অযুত, লক্ষ, নিযুত পেরিয়ে একজন পরিনত রাজ শাষক।
আমি ফের নিঃসঙ্গতার পিছু নেই
তোমায় ভেবে লেখা শত কাব্য উড়িয়ে দেই।
এই জীবনে বারবার রজনী নেমে আসে
ব্যথা কুড়িয়ে জমা রাখি বুকের বা পাশে।
অতঃপর, জীবনটাও ল্যাম্পপোস্টের বাতির মতো,
আলো আধারির খেলায় মেতে থাকা ব্যস্ত।
তবুও চাই এ জীবনে ব্যথা নেমে আসুক
মানুষের ছোবলে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হোক,
আরেকটু দুঃখের হাওয়া গায়ে বসুক।
নইলে ছন্দপতন।
আমার দীর্ঘশ্বাসের গল্প জানে সিগারেটের ফিল্টার।
আমার একাকিত্বের ক্রন্দন জানে, নিকোটিনে দুর্গন্ধে ঠেসা চার দেয়াল।
আমি একাকিত্বের সঙ্গী হিসেবে বরন করি সিলিং ফ্যানের সাঁই সাঁই সংলাপ।
কালবৈশাখী জানে, আমার হৃদয়ের ঝড়ের কাছে সে কতটা দুর্বল।
শহরের সমস্ত কোলাহল জানে, আমি কতটা নিশ্চুপ, নিষ্প্রভ।
আমার মন খারাপের গল্প জানে গুমোট সন্ধ্যা।
রাতের অন্ধকার জানে, ভীড় থেকে নিজেকে আড়াল করতে পারলে আমি কতোটা হাফ ছেড়ে বাঁচি।
পূর্ণমার চাঁদ জানে, আমি কতোটা নিঃসঙ্গ।
ব্যাকুল মেঘেরা জানে, আমার ঝুলিতে কতোটা না বলা গল্প।
ভোরের পাখি জানে, অনিদ্রার হিসেব না চুকিয়ে আমার নতুন দিনের অভিনয়ের প্রস্তুতি।
আমি ভীষন এলোমেলো, ঠিক এই কবিতার লাইনের মতো।
আমার ছন্নছাড়া, এলোমেলো রূপ জানে ঘোলাটে আয়না।
শুধু জানে না।
থাক।
অ্যাশট্রেতে সিগারেটের ছাই জমছে, জীবনের গল্প ভারী হচ্ছে।
আর কতোকাল মহারানী?
ওপারের সৌন্দর্য দেখে ঝাঁপ দিলাম শান্ত নদীতে,
আমার আগমনী বার্তায় পাড়ে ভাঙন ধরেছে।
ভিজবো বলে আকাশের নিচে দাঁড়ালাম,
আমায় দেখে মেঘেরা নিজেকে গুটিয়ে নিলো।
আমি বিজয় উল্লাসের আগেই
পতপত করে উড়তে থাকা পতাকার পতন হয়েছে।
চলন্ত শান্তির বাসটি
আমার জন্য থামেনি।
তুমি ভেঙেছো যুগে যুগে দাঁড়িয়ে থাকা সব সভ্যতা,
আমি ভেঙেছি নিজেকে।
তুমি সুখের জন্য তৈরি করেছো আকাশছোঁয়া অট্টালিকা,
আমি গড়েছি ধ্বংসস্তূপ।
জীবনের ধ্বংসস্তূপের উপর দাঁড়িয়ে
সুখের তারাটির সন্ধান করেছিলাম,
অতঃপর জানতে পারলাম
আমার জন্মের মুহূর্তেই সেটি খসে পড়েছে।