Jahidul Islam Zihad

প্রেম ও মিথ্যা পরস্পর বোঝাপড়ার মাধ্যমে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখে। বিচ্ছেদ তখনই হয় যখন তৃতীয় পক্ষ সত্যের অনুপ্রবেশ ঘটে।

তুমি দুঃখ পেলে কান্না করতে পারো। আমি সেটাও পারছি না। আমার অনেক শূন্যতার ভীড়ে সবচেয়ে বড়ো শূন্যতা চোখের পানি।

আমার গায়ে নতুন পোশাক শোভা পায় না, কারণ পুরোনেরা তখন হিংসার নজরে তাকিয়ে থাকে।

কষ্টের পর সুখ পাওয়ার পর হারানো অসুখ অনুভব করলাম। অতঃপর বুঝলাম কষ্টটাকেই আমি ভালোবেসেছিলাম নিজের অজান্তে।

যেখানে ভালোবাসা আছে সেখানে চলে মিথ্যার রাজত্ব। যেখানে সত্য আছে সেখানে ভালোবাসা অস্তিত্বহীন।

পৃথিবীর সব যন্ত্রণা ভোগ করা শেষ, বাকি আছে কেবল মৃত্যু যন্ত্রণা।

তুমি চলে যাও, আমি তোমার পায়ের ছাপ গুনে জীবন কাটিয়ে দিবো।

অনেক সময় ভেতর থেকে ভেসে আসে কথা বলার আকুতি।
চারপাশে তাকাই, কেউ নেই।
শুধু নিঃশব্দতা আর একাকিত্ব।
অবশেষে আবিষ্কার করি,
নিজের সাথেই আমার সবচেয়ে গভীর কথোপকথন হয়।
আমিই গল্পকার, আমিই শ্রোতা,
আমিই নিজের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী।

আমার অনেক পরিচিত মানুষ আছে। কিন্তু আপন মানুষ একজনও নেই।

স্বপ্ন আকাশ ছোঁয়ার। কিন্তু মৃত্যু পতিত করবে সাড়ে তিন হাত মাটির বুকে।

নিঃসঙ্গতার ভয় দেখিয়ো না,
আমি নির্জনতার সাথে গল্প করতে পারি।
আমি অনেক অকৃতজ্ঞ!
দুনিয়ায় নরক পেয়েও বলি কিছুই পাইনি।

বৈঠা বিহীন নৌকায় জীবনটা তুলে দিলাম অচেনা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। এখন আমি আমাকে নিয়ে জোয়ার-বাটার লড়াইটা উপভোগ করছি। জোয়ার ফিরিয়ে দিচ্ছে, বাটা কাছে টানছে। বাটা ফিরিয়ে দিচ্ছে, জোয়ার কাছে টানছে। এ যেন এক অনন্ত সংগ্রাম, যেখানে কখনো আমি সামনে এগোই, আবার কখনো পিছিয়ে পড়ি। সময়ের স্রোত আমাকে ঠেলে নিয়ে যায় এমন এক পথে, যেখানে দিশা অজানা, গন্তব্য অচেনা। আমি মাঝেমাঝে প্রশ্ন করি নিজেকে—এই লড়াইয়ের শেষ কোথায়? তবু থেমে থাকার উপায় নেই, কারণ জীবন মানেই তো এমন অনিশ্চিত যাত্রা।

এতো সুন্দর রাত আসে। চাঁদের লুকোচুরি হয়। মেঘেদের পালাবদল হয়। আকাশের বাহারি সাজসজ্জা হয়। কখনো মুষলধারে কিংবা এক পশলা বৃষ্টি হানা দেয়। প্রকৃতির এতো ব্যস্ততার মাঝেও আমি নিরব। কোথাও কোনো অস্থিরতা জমে আছে। সুখ-দুঃখের দোলাচালে দুলতে দুলতে অলস মস্তিষ্ক এর মানে খুজে বের করতে পারছে না।
তবুও অলস মস্তিষ্কের ভেতরে প্রশ্ন জাগে। কোনো এক অজানা তৃষ্ণা তাড়িয়ে বেড়ায়। কি যেন নেই? কি যেন চাই? কিন্তু সেই চাওয়ার কোনো নাম নেই। হয়তো রাতের এই নির্জনতা, প্রকৃতির এই অভিজ্ঞান, সবই মনে করিয়ে দেয় কোনো অতীত স্মৃতি। যা হয়তো ভুলে যেতে চেয়েছিলাম। অথবা হয়তো এ শুধু একাকিত্বের নিঃশ্বাস। যা মনের কোণে লুকিয়ে থাকা অস্থিরতাকে জাগিয়ে তুলছে। চারপাশের এই রূপময়তা আর শূন্যতা মিলেমিশে অদ্ভুত মোহ তৈরি করেছে। যা থেকে লুকানোর কোনো উপায় নেই। সময় যেন থেমে গেছে। আর আমি আটকে আছি সেই মুহূর্তে, সেই অনুভূতিতে, যার কোনো শেষ নেই।
অতঃপর বৃষ্টিময় সকাল ধীরে ধীরে নেমে আসে। প্রতিটি ফোঁটার ছোঁয়ায় মনে হয় যেন প্রকৃতি তার সমস্ত ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে নতুন দিনের আহ্বান জানাচ্ছে। আকাশের ধূসর রঙ ধীরে ধীরে হালকা নীলের আভায় রূপ নিচ্ছে। আর গাছের পাতা থেকে ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির পানি মাটিতে মিশে যায়। যেন রাতের সমস্ত অস্থিরতা আর উদ্বেগ মুছে দিয়ে প্রকৃতি নতুন সূর্যোদয়ের অপেক্ষায় আছে। আমার ভেতরের শূন্যতা আর প্রশ্নগুলোও বৃষ্টির সাথে ধুয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।
বৃষ্টির শব্দের মাঝে যেন হারিয়ে যাচ্ছে সকল অস্থিরতা, আর আমি নিজেকে খুঁজে পাচ্ছি সেই শান্তির মাঝে। যা এতক্ষণ অন্ধকারের অন্তরালে ছিল।
কিন্তু আবার আসবে কি সেই রাত? কে জানে!

তুমি তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছো 

কারো আদুরে ছোঁয়ায়। 

আমি কাতরাচ্ছি 

নিকোটিনের কালো ধোঁয়ায়।

Scroll to Top