আলতো স্পর্শ
বর্তমান: গোধুলি সন্ধ্যা, পশ্চিম আকাশে সূর্যটা ডুবো ডুবো অবস্থায় ভাসছে। তার চারদিকে মেঘগুলো লাল আভা সেজে বসে আছে। নদীর জল মনে হয় সূর্যের আলতো আলো পেয়ে সোনালি রং সেজে খেলা করছে। চারদিকে পাখিদের আনাগোনা। অনেক দূর থেকে ভেসে আসছে খেঁকশিয়াল এর ডাক। মাথার উপর উড়ে বেড়াচ্ছে গাঙ্গচিল। মাঝে মাঝে নদীর বুকে ঠোকর দিচ্ছে। হাতের ডান পাশে গভীর ঘুমে লিপ্ত আছে আমার ছোটবেলার বন্ধু, এক কথায় আমার ভালোবাসার মানুষ। সব মিলিয়ে এক মনোরম পরিবেশ। কিন্তু আমি কেন স্তব্ধ হয়ে বসে আছি! কেনইবা আমার দুচোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে!
অতীত: আমার বেড়ে ওঠা গ্রামে, ছোটবেলা থেকে গ্রামের আলো ছায়ায় একসাথে বড় হয়েছি আমরা দুই জন। ও হ্যা আরেকজন এর নাম হচ্ছে তারুন্য। কিন্তু আমি ওকে আদর করে তারু বলে ডাকতাম। আমার দেখাদেখি সবাই তারু বলেই ডাকতো। আমি আর তারু একসাথে খেলাধুলা করতাম, একসাথে বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন ফল চুরি করে খাইতাম, একসাথে স্কুলে যাইতাম। পরিবারের আর্থিক অনটনের কারনে আমার পড়ালেখা বেশি দূর পর্যন্ত পৌছায়নি। ষষ্ঠ শ্রেনী পর্যন্ত পড়ালেখা করতে পেরেছি। তারপর কাজে লেগে যাই কখনো কখনো হাল চাষ করতাম, আবার কখনো নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে যাইতাম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মাছ ধরতাম। তারপর সেগুলো বাজারে বিক্রি করে পরিবারের জন্য চাল ডাল নিয়ে আসতাম। কিছু টাকা জমিয়ে রাখতাম তারুকে কিছু উপহার দেওয়ার জন্য। আর তারু এবার এস এস সি তে গোল্ডেন জি পি এ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। তার শখ শহরে গিয়ে ডাক্তারি পড়বে। সেই আশা নিয়ে পথ অতিক্রম করতে আছে। কিন্তু তার আশা আশাই থেকে গেল!
ওগো শুনছো? হ্যা বলো” কাল একটু ভালো মন্দ রান্না করবে, মেয়েটা তো বড় হইছে, কাল পাশের গ্রাম থেকে জমিদার সাহেব আসবে ওকে দেখার জন্য, পছন্দ হইলে আন্টি পড়াইয়া চইলা যাবে। কথাগুলো তারুর মায়ের কাছে তার বাবা বলছে। পাশের বারান্দা থেকে সব শুনতে পেল তারু। তবে তারুর বাবা কথাগুলো বলেছিল যেন তারু শুনতে পায়। ও শুনলে তো তার কিছু যায় আসে না। তিনি ছোটবেলা থেকে যা বলেছিল তাই মেনে নিয়েছে তারু। হঠাৎ তাদের মাঝে তারু এসে বলল বাবা এসব কি করছো আমাকে না জানিয়ে। একটা কথা বলে রাখি কোনদিন আমাকে ওই বুইড়া মজিদ জমিদারের সাথে বিয়ে দিতে পারবে না। তিন তিনটা বউ তার তোমাদের লজ্জা করে না তার হাতে আমাকে তুলে দিতে! আমি শহরে গিয়ে ডাক্তারি পরমু তারপর কোন এক ছেলেকে বিয়ে করে নিব। এখনকার মত এসব চিন্তাধারা বাদ দাও। কথাগুলো এক নিশ্বাসে বলে গেল তারু। তারুর বাবা মা তার দিকে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে যে মেয়ে এতদিন বাবার বিরুদ্ধে একটা কথা বলে নাই সে আজ কি বলছে। তারুর মা বলল দেখ মা তার তিনটা বউ তাতে কি হইছে, তার বিঘে বিঘে জমি আছে তোকে অনেক শান্তিতে রাখবে। না মা আমি এ বিয়ে মানি না! তয় ওই পোলার লগে ঢ্যাং ঢ্যাং করে ঘুরে বেড়াবে সেটা ভালো লাগে। রাগি সুরে বলল তারুর বাবা। নিঃশব্দ,,,,,,,,,,,,,, তোমার বিয়ে ওই জমিদারের সাথেই হবে! তারু কিছু না বলে কান্না করতে করতে নিজের ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ে।
তারপর রাত প্রায় ৩ টা বাজে তারু চুপি চুপি আমার ঘরের বারান্দায় এসে ফিস ফিস করে ডাকছে জিহাদ,, ওই জিহাদ, জিহাদ কি হলো ওঠ। কানের কাছে শব্দ পৌছা মাত্রই জেগে উঠে বললাম কে কে কে!
তারু: আস্তে, ডাকাডাকি করিস না, বাহিরে আয় কথা আছে।
আমি: তুই এত রাতে এখানে কি কর? আর কি এমন কথা এখন বলতে হবে?
তারু: আগে বাহিরে আয় তারপর বলব।
এরপর ঘুম মাখা চোখে বাহিরে বেড়িয়ে এলাম। কি কথা বল!
তারু: চল পালিয়ে যাই!
আমি দুপা পেছনে সরে গিয়ে বললাম, তোর মাথা ঠিক আছে এত রাতে এই ধান্দা কেন?
তারু: কাল মজিদ জমিদার আমাকে দেখতে আসবে। পছন্দ হইলে নাকি আন্টি পরাইয়া যাবে। আর উনি যে লুইচ্চা মনে হয় আন্টি না পরাইয়া যাবে না।
আমি: তা কি হইছে তার বিঘে বিঘে জমি আছে তুই অনেক সুখে থাকবি।
তারু: তোর মাথা খারাপ ওই বুইরা জমিদারের সাথে ঘর সংসার করব। আমি শহরে গিয়ে ডাক্তারি পরব।
আমি: তাও কথা তোর তো ডক্তারি পড়ার অনেক শখ। তা পালিয়ে গিয়ে থাকবি কই?
তারু : তোর নৌকায় থাকব, তুই যেখানে খুশি নিয়ে যাবি। সময় নাই এখনি চল।
আমি : দারা ঘর থেকে জামাটা নিয়ে আসি।
তারপর ও আর আমি নদীর পারের দিকে যাচ্ছি যেখানে নৌকা বাঁধা আছে। তারপর দুজনে নৌকায় উঠলাম। নৌকার দড়ি খুলে বৈঠা হাতে নিয়ে বাইতে লাগলাম,,,,,,,
তারু: তারাতারি বৈঠা বাঁ,,,,, ভোর হইয়া যাইবে, কেউ দেখতে পইলে সর্বনাশ হইয়া যাবে।
আমি: হুম,,,,,
তারপর কিছুক্ষন পর পূর্ব আকাশে সূর্যের দেখা মিলল। ততক্ষণ আমরা এলাকা ছাড়িয়ে অনেক দূর চলে এসেছি। এখন আর কেউ আমাদের খুজে পাবে না।
তারু: দেখ দেখ সকালের আবহাওয়াটা কত সুনন্দর, এতদিন তো সকাল দেখতি না নাক ডেকে ঘুমাইতি এই বলে হিহিহিহি করে হেসে দিল। সে এক অন্যরকম হাসি,,,,, আমি কিছুই বলছি না শুধু বৈঠা বাইতে আছি,,,,,, সূর্য প্রায় পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ছে।ক্ষুদায় পেট মরে যাচ্ছে এমন সময় তারু বলে উঠল খুব ক্ষিদে লাগছে রে বাড়ি থেকে কোন খাবারও নিয়ে আসি নাই এখন কি হবে? আতঙ্ক শুরে বলছে। তারপর আমি দেখতে পেলাম দূরে অনেক নৌকা নদীর তীরে বাঁধা, মনে হয় যাযাবরের দল হবে। যাই হোক ওখানে যাইতে হবে কিছুটা হলেও খাবার পাওয়া যাবে। তারপর কিছুক্ষণ পর সেখানে পৌছেছি। যাযাবরের দল সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে রইছে। তারপর তাদের মধ্যে থেকে একজন বলে উঠল তোমরা কারা? মনে হয় তিনি যাযাবরের সর্দার হবে। আমি বললাম আমরা পাশের গ্রামে বেড়াতে যাচ্ছি নদীর স্রতের বিপরীতে নৌকা চালাতে গিয়ে দেরি হইয়া গেছে আর কিছুক্ষন পর সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসবে, তাই আজ রাত আপনাদের সাথে থাকতে চাই আপনারা যদি রাজি থাকেন! তারপর উনি সবার দিকে তাকিয়ে বলল তোমরা রাজি? তারপর এক বৃদ্ধা মহিলা বলল ওনাদের এখন কিছু করার নেই আজ রাত না হয় আমাদের সাথে থাকবে, এতে তো আমাদের কোন সমস্যা নাই। সবাই তার কথা শুনে বলল হ্যা আমরা রাজি। খুশিতে মন ভরে গেল তারমানে কিছু খাবারও জুটবে। পাশে তারু গুনগুন করে বলছে বানিয়ে ভালোই মিথ্যা বলতে পারো। আমি মুচকি হাসি দিয়ে কি বলতে চাইয়া আর বললাম না। তারপর বৃদ্ধা মহিলাটি এসে বলল তোমরা কিছু খেয়েছো মাথা নাড়িয়ে বললাম না। এ কে আছ উনাদের জন্য খাবার নিয়ে আয়। কিছুক্ষন পর একটি মেয়ে খাবার নিয়ে উপস্থিত হল সামনে খাবার বেড়ে দিল, আর দেরি না করে হাপুস হুপুস গিলতে লাগলাম। তারু উঠে বলল এভাবে গরুর মত খাইস না আস্তে খা। আহা সোয়ামিকে তুই বলতে নেই পাপ হয় মহিলাটি বলল। আমি ভাবলাম এতক্ষণ তারু মনে হয় বৃদ্ধার দিকে আড় চোখে তাকিয়ে আছে এই ভেবে ওর দিকে তাকালাম তা দেখে আরো অবাক হইলাম। ও আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে আর ভুরু উপর নিচ করছে। আমি কিছু না বলে খাবার খেয়ে উঠে পাশের সবুজ ঘাসের উপর শুয়ে রইছি। কিছুক্ষন পর দেখছি তারু যাযাবর মেয়েদের সাথে গুটি খেলছে, মাথায় বিলি কাটছে, দৌড়াদুড়ি করছে। আমি ওরে দেখছি আর ভাবছি কিভাবে সহজে মানুষের সাথে মিশতে পারে। এসব ভাবতে ভাবতে সন্ধ্যা হয়ে গেল দলের সরদার বলছে তোমরা যার যার আস্তানায় যাও! সাথে সাথে সবাই যার যার আস্তানায় চলে গেল। আমিও আমাদের নৌকায় উঠে এসেছি। তারুকে দেখতে পাচ্ছি না এর মধ্যেই দেখতে পেলাম, ও অন্য নৌকায় বসে যাযাবর মেয়েদের সাথে গল্প করছে। তারপর কিছুক্ষন পর বৃদ্ধা মহিলা ওকে বলছে ঘুমাবে না? যাও সোয়ামির সাথে গিয়ে ঘুমিয়ে পর। ও বলছে না আজ আপনাদের সাথে ঘুমাই। তাহলে সোয়ামির অনুমতি নিয়ে আস। তারপর তারু ওখান থেকেই ডাক দিয়ে বলছে ওগো শুনছো আজ আমি এখানে ঘুমাই। আমি বললাম সমস্যা নাই ঘুমাও। মনে মনে ভাবছি ওতো অনেক ভালো অভিনয় করতে পারে। তারপর ঘুমিয়ে পরলাম এক ঘুমে সকাল হইয়া গেছে। পাশে তারু এসে আমার হাত নাড়ছে আর বলছে ওঠ ওঠ সকাল হইছে আমাদের নদীর তীরে বেশীক্ষণ থাকা যাবে না। তারপর উঠে বসলাম আর বলছি এখনি যেতে
হবে? তারু: হুম জমিদারের লোকজন নদীর কুল ধরে এইদিকে আসতে পারে। আমি: হুুম চল, তারপর সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রওনা হলাম। বৃদ্ধা মহিলা কিছু শুকনো খাবার নিয়ে এসে বলে ক্ষুদা পেলে খেয়ে নিও। তারপর বৈঠা বাওয়া শুরু করলাম কোথায় যাই যানি না। শুধু এইটুকু জানি তারুতে জমিদারের হাত থেকে রেহাই করতে হবে! প্রায় দুপুর ঘনিয়ে এলো। তারু নৌকার তীরে বসে পানিতে পা নাড়ছে আর গুনগুনিয়ে কি যেন একটা গান গাইছে। আমার ক্ষিদে পাইছে কিছু খাবো তারপর বৃদ্ধার দেওয়া থলেটা খুললাম তার মধ্যে মুড়ি আর মিঠা আছে, নদীর পানিতে হাত ধুয়ে খাব এর মধ্যে ওকে বলছি কিরে খাবি না। না খাবো না ক্ষিদে নেই। আমি আচ্ছা তুই তো আগে বাচালের মত পট পট করতি এখন দেখছি কিছুই বলছো না, শরীর খারাপ না কি এই কথা বলতে না বলতে ওর কপালে হাত রাখলাম। কিরে তোর তো অনেক জ্বড় আর তুই আমাকে কিছুই বলছো না। এখন কি হবে, কোথায় যাবো, কোথায় পাবো কবিরাজ। বাদ দে তো সামান্য জ্বড় এমনিতেই চলে যাবে, তারু বলছে। আমি: এই জ্বড় সামান্য বলছো তুই? চল দেখি তীরে যাইয়া কোন কবিরাজ পাই কিনা। এই ভেবে বৈঠা শরীরের শক্তি দিয়ে বাইতে লাগলাম কিন্তু নদীর কোন তীর খুজে পাচ্ছি না। এর মধ্যে সূর্য পশ্চিম আকাশে অনেকটা হেলে পড়ল। তারু আমার দিকে তাকিয়ে রোগা সুরে বলছে আচ্ছা তুই কি আমারে ভালোবাস? আমি হতভম্ব হয়ে বললাম বাদ দে তো ওসব কথা। ও আমার দিকে তাকিয়ে মিচকি একটা হাসি দিয়ে কিছু বলতে চাইয়া বলল না। তারপর কিছুক্ষন পর ওরে বললাম একটা সত্যি কথা বলব। হুম বল, আমি: বলবো? যা বল তারাতারি বল খুব ঘুম পাচ্ছে। আমি : হুম আমি তোরে অনেক ভালোবাসি। তারু কিছুই বলছে না। ভাবলাম ও আরো কিছু শুনতে চায়, তারপর বলতে লাগলাম আমি তোরে ছোটবেলা থেকেই অনেক ভালোবাসি কিন্তু সাহস করে বলতে পারি নাই, কারন তুই যদি আমার ভালোবাসা মেনে না নিয়ে আমাকে ভুলে যাও। কিন্তু তারু কোন কথা বলছে না। আমি বললাম কিরে কিছু বল, তারপরও কোন কথা বলছে না। আবার বললাম কি হইছে কিছু বল। হঠাৎ দেখতে পেলাম ও নৌকার ছাউনিতে হেলান দেওয়া অবস্থা থেকে নৌকার পাটাতনে পড়ে গিয়েছে, কেমন জানি একটা অচেনা শব্দ কানে বেজে উঠল। বৈঠাটা হাত থেকে ফসকে নদীর স্রোতে ভেসে যাচ্ছে। আমি আস্তে আস্তে ওর পাশে গিয়ে বসলাম, তারপর ওরে আলতো স্পর্শ করে মাথাটা কোলের কাছে তুললাম। বুজলাম ও আমাকে ছেড়ে অনেক দূরে চলে গিয়েছে। ও আর আমার কাছে ফিরে আসবে না, তারপর ওর মাথা বুকের সাথে জড়িয়ে অনেক চিৎকার করে মন উজাড় করে কাদছি। আমার কান্না শোনার মত আশেপাশে কেউ নেই। নদীর মাঝে শুধু তারু আর আমি। হঠাৎ কি যেন ভেবে ওকে ছেড়ে পাশে স্তব্ধ হয়ে বসে পরি, চিৎকার করে কাদতে পারছি না। চোখ দিয়ে জল বেয়ে পড়ছে, এ যেন আর এক নদীর স্রোত।
বর্তমান:- রাত ঘনিয়ে আসছে, আমার অবস্থার কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। নৌকাটি স্রোতে ভেসে কোথায় যাচ্ছে বলতে পারছি না। এর মধ্যে কেমন করে ওর পাশেই ঘুমিয়ে পড়লাম। তারপর ভোর হলো চারদিকে পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ। ঘুমের স্বরে তারুকে বলছি ওই ওঠ সকাল হইছে। কিরে ওঠ,,,, তারপর মনে পড়ল ও জাগবার জন্য ঘুমায়নি ও চিরতরে ঘুমিয়ে পরেছে। এই কথা ভাবতে ভাবতে আবার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পরছে। দেখতে পেলাম নৌকাটি কোন এক চড়ে এসে থামল, যেখানে অনেক গাছগাছালি। মনে হয় এখানে কোন মানুষ থাকে না। যাই হোক আল্লাহ বোধ হয় এখানে আনছে। তারুর বাড়ি বুঝি এখানেই হবে। নৌকা থেকে একটা শক্ত পোক্ত কাঠ বের করলাম এটা দিয়েই তারুর নতুন বাড়ি বানাতে হবে। ঐ নির্জন জঙ্গলে অনেক কষ্ট করে তারুর জন্য নতুন বাড়ি তৈরি করলাম, যে বাড়িতে ও ছাড়া আর কেউ থাকবে না। ওখানে তারুকে রেখে সুন্দরভাবে মাটি দিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হলাম, আর আমার কেমন জানি মনে হচ্ছে ও পিছন থেকে আমায় ডাকছে আর বলছে আমায় এভাবে একা রেখে তুই সার্থপরের মত চলে যাও। এতটা সার্থপর হয়ে গেলি,,,,, আমি শুধু কান্না করছি আর মনে মনে বলি হ্যা চলে যাই ওই নষ্ট সমাজের কাছে যেখানে তোদের মত মেয়েদের ইচ্ছার কোন মূল্য দেওয়া হয় না। যেখানে তোদের মত মেয়েদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাল্য বিবাহ দেওয়া হয়।
গল্পের নাম:- আলতো স্পর্শ
লেখক:- জাহিদুল ইসলাম জিহাদ
সময়: ২০১৮